Nur News Blog

variety

Sunday, February 23, 2025

ডিসি-এসপি-ওসি বাধ্যতামূলক অবসরে অধরা চার ইসি

 

ডিসি-এসপি-ওসি বাধ্যতামূলক অবসরে

অধরা চার ইসি



তারা ইতিহাসকে বদলে দিতে পারতেন। নির্মোহভাবে সাংবিধানিক দায়িত্ব পালন করলে নিজেরাও হতে পারতেন মহীয়ান। সেটি তারা করেননি। বরং প্রলুব্ধ হয়েছেন হাসিনার উচ্ছিষ্টের প্রতি। হাসিনার ফ্যাসিজমের যাত্রাপথে দীর্ঘ লাল কার্পেট বিছিয়ে দিয়েছিলেন তারা। মাফিয়াতন্ত্র প্রতিষ্ঠার পথকে করেছিলেন কুসুমাস্তীর্ণ। ‘নির্বাচন’ নামক বিষয়টিকেই পরিণত করেছিলেন তামাশায়। হাসিনার ডিজাইনে অত্যন্ত পরিকল্পিতভাবে ধ্বংস করেছিলেন রক্তের বিনিময়ে প্রতিষ্ঠিত নির্বাচনী ব্যবস্থাকে। শুধুমাত্র হাসিনাকে ক্ষমতায় রাখতে হাতে ধরে ধ্বংস করা হয় নির্বাচন কমিশন। অবশ্য এর বিনিময়ও পেয়েছেন এর কুশীলবরা। ব্যক্তিগতভাবে প্রত্যেকে হয়েছেন লাভবান। অর্থ-বিত্তে ফুলে- ফেঁপে ঢোল হন তারা। সুযোগ-সুবিধা, নিরাপত্তা, সেফ এক্সিট,দায়মুক্তিসহ সকল ব্যবস্থা করে দিয়েছিলেন জাতিসংঘ স্বীকৃত গণহত্যাকারী হাসিনা। যারা শেখ হাসিনাকে ‘খুনি হাসিনা’ হওয়ার ভিত্তি-ভূমি রচনা করেছিলেন সেই কুশীলবরা এখনো ধরা-ছোঁয়ার বাইরে। সরকার হয়তো বাতকা বাত বলছে, হাসিনার মাফিয়াতন্ত্রের সঙ্গে জড়িত কাউকে ছাড় দেয়া হবে না। প্রত্যেককে বিচারের আওতায় আনা হবে। কিন্তু বাস্তবতা হচ্ছে, নির্বাচন কমিশনে থাকা কুশীলবদের তেমন কাউকেই গত ৬ মাসে আইনের আওতায় আনা হয়নি। গ্রেফতারতো দূরের কথা। এই বিলম্বের মধ্য দিয়ে দেশবাসীর কাছে এই বার্তাই স্পষ্ট হয়ে উঠেছে যে, অন্তর্বর্তী সরকার তাদের গ্রেফতার এবং বিচারের মুখোমুখি করার প্রশ্নে কালক্ষেপণ করে প্রকারান্তে ‘ছাড়’ দিচ্ছে। তাদের ‘সেফ এক্সিট’র সময় দিচ্ছে। যদিও ৫ আগস্টের পর বিগত চারটি নির্বাচন কমিশনের অনেক কর্মকর্তাই দেশ ছেড়ে পালিয়েছেন। হাসিনা উৎখাতের পরপরই পালিয়েছেন তারা। কুশীলবদের দেশত্যাগে ইমিগ্রেশনে নিষেধাজ্ঞা হয়তো দেয়া আছে। কিন্তু এর মধ্যেই দেশত্যাগ করেছেন অনেকে। বিশ্লেষকরা মনে করেন, বিগত চার নির্বাচন কমিশনের প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি),সকল কমিশনার, নির্বাচন কমিশন সচিব এবং গুরুত্বপূর্ণ কর্মকর্তাদের ৫ আগস্টের পরপরই গ্রেফতার করা জরুরি ছিলো।

চার নির্বাচন কমিশনের অপরাধ কী ? : সংবিধানের ১১৮ (১) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী প্রতিষ্ঠিত নির্বাচন কমিশন। স্বভাবজাতভাবে এটি স্বাধীন সংস্থা। অনধিক চার সদস্যের সমন্বয়ে গঠিত হয় কমিশন। রয়েছে নিজস্ব স্বাধীন ‘নির্বাচন কমিশন সচিবালয়’। ‘নির্বাচন কমিশন সচিব’ কমিশনের সাচিবিক দায়িত্ব পালন করেন। ২০০৯ সালে আ’লীগ ক্ষমতায় আরোহণ করে সংবিধানের ১১৮(৪) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী স্বতন্ত্র সচিবালয় প্রতিষ্ঠার আইন করে। যার প্রকৃত উদ্দেশ্য ছিলো স্বাধীন নির্বাচন কমিশনে আমলাতন্ত্রের ক্ষমতাকে সুসংহত করা। ‘নির্বাচন কমিশন আইন’ এবং ‘নির্বাচন কমিশন সচিবালয়’ আইনে নির্বাচনী অপরাধের জন্য নির্বাচনে অংশগ্রহণকারী প্রার্থী, নির্বাচন কমিশনের অধীনস্থ কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ব্যক্তিগত অপরাধের জন্য বিভিন্ন ধরনের শাস্তির বিধান রয়েছে। অথচ দু’টো আইনেই অস্পষ্ট রাখা হয়েছে প্রধান নির্বাচন কমিশনার, কমিশন সদস্য এবং সচিবের অপরাধের শাস্তির বিষয়টি। ২০০৮-২০২৪ সাল পর্যন্ত নির্বাচনগুলোর অভিজ্ঞতা থেকে বিশ্লেষকরা বলছেন, নির্বাচন কমিশন সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান হলেও ইসিকে দায়বদ্ধ করার সুস্পষ্ট বিধান থাকা প্রয়োজন। ২০০৮ সালে ৯ম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরপেক্ষ ভূমিকায় না থেকে বৃহৎ রাজনৈতিক দল বিএনপিকে খন্ড-বিখন্ড করার চেষ্টা, ২০১৪ সালের একতরফা ১০ম সংসদ নির্বাচন, ২০১৮ সালের একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ‘দিনের ভোট রাতে’ এবং সর্বশেষ দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ‘আমি-ডামি’র নির্বাচন। চারটি নির্বাচনেই নির্বাচন কমিশনের দায় রয়েছে। কারণ সাংবিধানিকভাবে নির্বাচন কমিশনারগণ মূলত সুষ্ঠু, গ্রহণযোগ্য ও নিরপেক্ষ নির্বাচন অনুষ্ঠান করার শপথ নিয়েছিলেন। কিন্তু নির্বাচনের নামক নাটক মঞ্চস্থ করে হাসিনার ক্ষমতাকে নিরঙ্কুশ করার মধ্য দিয়ে শপথ ভঙ্গ করেছেন তারা। সাংবিধানিক পদে আসীন ব্যক্তিগণ ‘শপথ আইন-১৮৭৩’র আওতায় শপথ গ্রহণ করেন। কিন্তু শপথ ভঙ্গ করলে কি শাস্তি হবে-আইনে সেটি নেই। অর্থাৎ, বিগত চারটি নির্বাচন কমিশন দল ভাঙার চেষ্টা, ভোটারবিহনী নির্বাচন, রাতের ভোট এবং যে ‘ডামি নির্বাচন’ করেছেন এ জন্য তাদের শাস্তির মুখোমুখি করা যাবে না।


No comments:

Post a Comment

আমার আশায় আশায় দিন যে গেল, আশা পূরণ ...

  আমার আশায় আশায় দিন যে গেল, আশা পূরণ ... "আশার শেষ প্রহর" রাতের শেষ প্রহরে জানালার পাশে বসে আছে রাহাত। কফির কাপে ধোঁয়া উঠছে ধীর...