নারীর চক্রান্ত ভয়ঙ্কর, কিন্ত আল্লাহর কৌশল সূক্ষ্ম। অতএব, হে যুব-যুবা- তোমরা আল্লাহর কৌশলকে আঁকড়ে ধর।
নারীর চক্রান্ত বনাম আল্লাহর কৌশল
একদা এক যুবক, নাম তার সালেহ, ইবাদতগুজার ও সৎচরিত্রের অধিকারী ছিল। সে জ্ঞান ও নৈতিকতায় অন্যদের থেকে আলাদা ছিল, তাই সমাজের অনেকে তাকে শ্রদ্ধা করত। কিন্তু তার সততা ও তাকওয়া কিছু মানুষের জন্য ছিল ঈর্ষার কারণ।
গ্রামের এক ধনী ব্যক্তি, যার নাম ছিল হাসান, তার এক সুন্দরী কন্যা লায়লা সালেহকে পছন্দ করত। লায়লা চেয়েছিল যে সালেহ তাকে বিয়ে করুক, কিন্তু সালেহ জানত যে লায়লা নৈতিকভাবে খুব বেশি দৃঢ় নয়। সে ধন-সম্পদের লোভী ও অহংকারী ছিল। সালেহ বিনীতভাবে তার প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করল।
এই প্রত্যাখ্যান লায়লার হৃদয়ে প্রতিশোধের আগুন জ্বালিয়ে দিল। সে পরিকল্পনা করল কিভাবে সালেহকে কলঙ্কিত করা যায়। একদিন সে লোকদের সামনে এসে কান্নাকাটি করে বলল,
— "সালেহ আমাকে লোভ দেখিয়ে আমার ইজ্জত লুটে নিতে চেয়েছিল! আমি তাকে বাধা দেই, তাই সে আমাকে অপমান করে চলে গেছে।"
গ্রামের লোকেরা বিক্ষুব্ধ হয়ে উঠল। এত সৎ ও ধার্মিক মানুষ এমন কিছু করতে পারে, তা বিশ্বাস করতে কষ্ট হলেও, লায়লার প্রভাব এবং কান্নাকাটির ফলে সবাই সন্দেহে পড়ে গেল। সালেহকে ধরে এনে বিচার বসানো হলো।
কিন্তু আল্লাহর কৌশল সূক্ষ্ম!
এক বৃদ্ধ আলেম এগিয়ে এসে বললেন,
— "আমরা কারো অভিযোগ শুনে বিচার করব না। আল্লাহর ন্যায়বিচার দেখার জন্য আমরা আল্লাহর ওপর ভরসা করব।"
তিনি লায়লাকে কসম করতে বললেন যে, যদি সে সত্য বলে থাকে, তবে যেন সে আল্লাহর নাম নিয়ে বলে। লায়লা এক মুহূর্তের জন্য থমকে গেল। কারণ সে জানত, সে মিথ্যা বলছে। একবার আল্লাহর নামে মিথ্যা শপথ করলে তার পরিণতি হবে ভয়াবহ!
তার মুখ ফ্যাকাশে হয়ে গেল, সে কথা বলতে পারল না। তখন উপস্থিত জনতা বুঝতে পারল যে আসল সত্য কী। তারা বুঝল যে লায়লা চক্রান্ত করেছিল এবং সালেহ নির্দোষ।
আল্লাহর কৌশলই শেষ পর্যন্ত বিজয়ী হলো। কারণ তিনি সর্বজ্ঞ, সুবিচারকারী।
উপদেশ
হে যুবক-যুবতী! পৃথিবীতে বহু চক্রান্ত হতে পারে, কিন্তু আল্লাহর কৌশলই সর্বোত্তম। তাই সবসময় সত্যের পথে থাকো, ধৈর্য ধরো, এবং আল্লাহর ওপর ভরসা রাখো। কেননা, চক্রান্ত যতই ভয়ঙ্কর হোক না কেন, আল্লাহর ন্যায়বিচার সব কিছুকে ছাপিয়ে যাবে!